
মানিকগঞ্জ ডায়াবেটিক হাসপাতালের ভেতরের ফার্মেসির তালা ভেঙে ওষুধ ও নগদ টাকা চুরির অভিযোগ উঠেছে। গভীর রাতে হাসপাতালের নিরাপত্তাকর্মী ও সিসিটিভি ক্যামেরা থাকা সত্ত্বেও ফার্মেসিতে ঢুকে প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার টাকার ওষুধ ও মালামাল এবং আনুমানিক ৫০ হাজার টাকা চুরি করে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ রয়েছে। চুরির পর বের হওয়ার সময় ফার্মেসিতে নতুন একটি তালাও।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) রাত ৩টার দিকে মানিকগঞ্জ পৌরসভার কাচারী মাঠ এলাকায় অবস্থিত ৫০ শয্যাবিশিষ্ট মানিকগঞ্জ ডায়াবেটিক হাসপাতালের ভেতরের ফার্মেসিতে এ চুরির ঘটনা ঘটে।
হাসপাতালে থাকা একমাত্র ফার্মেসি ‘মানিকগঞ্জ ডায়াবেটিক হাসপাতাল ফার্মেসি’ থেকে চুরির ঘটনাটি ঘটে। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, রাত ৩টা ১৫ মিনিটের দিকে মাস্ক পরা এক ব্যক্তি ফার্মেসির শাটারের তালা ভাঙেন।
তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশের পর ওই ব্যক্তি ফোনে কথা বলতে বলতে ফ্রিজ খুলে দামি ওষুধ ব্যাগে ভরতে থাকেন। পরে ফার্মেসির গুরুত্বপূর্ণ অংশে রাখা আরও দামি ওষুধ ব্যাগে ঢোকান। সবশেষে ক্যাশে থাকা আনুমানিক ৫০ হাজার টাকার একটি বান্ডেল নিয়ে বেরিয়ে যান। যাওয়ার সময় ফার্মেসির শাটারে নতুন একটি তালা লাগিয়ে দেন তিনি।
ফার্মেসির কর্তৃপক্ষ গোবিন্দ সরকার বলেন, তিনি শুক্রবার রাতে আনুমানিক সাড়ে ১০টার দিকে ফার্মেসিতে তালা দিয়ে চলে যান। শনিবার সকাল ৮টা ২০ মিনিটের দিকে ফার্মেসি খুলতে এসে কর্মচারী শিহাবের কাছ থেকে চুরির বিষয়টি জানতে পারেন।
পরে দ্রুত এসে সিসিটিভি ফুটেজ ও মালামাল পরীক্ষা করে চুরির বিষয়টি নিশ্চিত হন বলে জানান তিনি। গোবিন্দ সরকারের দাবি, চোরেরা আনুমানিক ৫০ হাজার টাকা নগদ এবং প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার টাকার ওষুধ ও মালামাল নিয়ে গেছে।
তিনি বলেন, হাসপাতালে নাইটগার্ড বা সিকিউরিটি গার্ড থাকার পরও এভাবে ফার্মেসিতে ঢুকে চুরি হওয়ার ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। চোরকে দ্রুত শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তিনি।
হাসপাতালের এক কর্মচারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, এর আগে হাসপাতালে এ ধরনের ঘটনা ঘটেনি। রাতে নাইটগার্ড থাকার পরও কীভাবে তালা ভেঙে চুরি হলো, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজে চোরকে ফার্মেসির কোথায় দামি ওষুধ রাখা আছে, তা বুঝে বুঝে নিতে দেখা গেছে বলেও দাবি করেন তিনি।
হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা মো. মিজানুর রহমান বলেন, সকালে হাসপাতালে এসে ওষুধ কিনতে গিয়ে চুরির ঘটনা সম্পর্কে জানতে পারেন। তার ভাষ্য, হাসপাতালের ভেতরে সিকিউরিটি ও সিসিটিভি থাকার পরও এভাবে চুরি হওয়া নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। এ ঘটনায় কারও যোগসাজশ রয়েছে কি না, সেটিও তদন্ত করা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
আশপাশের ফার্মেসি ব্যবসায়ী ফরহাদ ও সবুজ বলেন, এ এলাকায় এবং বিশেষ করে হাসপাতালে এর আগে এ ধরনের চুরির ঘটনা তারা দেখেননি। ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তারা।
এদিকে চুরির বিষয়ে মানিকগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনির হোসেন প্রথমে অবগত ছিলেন না। পরে এ প্রতিবেদকের মাধ্যমে ঘটনা সম্পর্কে জানার পর তিনি বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান।















